৭ই মার্চের কবিতা ।৭ই মার্চের ভাষণ নিয়ে কবিতা


আজকে আমরা পড়বো ৭ই মার্চের সেরা কবিতা গুলো

৭ মার্চের ভাষণ
মোহাম্মদ মাসুকুজ্জামান

রুদ্র প্রকটে বজ্র অনলে
উত্থিত তর্জনী লক্ষ্যে লাখো জনতা
দিলে ডাক মুক্তির সোপানে।
বক্ষে তোমার দেশমাতৃকা,
ছিল অনুরাগে।
পিতা তুমি আজও অমলিন
অবিনশ্বর।
ছিলে সেদিনও অধীশ্বর,
মুক্তিকামী চেতনার।

শব্দের বারুদে ক্রমাগত চয়নে-
দিয়েছিলে জ্বেলে তপ্ত চিঙ্গারে।
সপ্রতিভ সেই মুষ্টিবদ্ধ হাত
সাথে আঙুল একটি ছিল জাগরণ।
‘থাক সঙ্গবদ্ধ, হও এক; বলীয়ান’,
এ যেন তোমার অব্যক্ত কথন
তিমির বেদিতে।

কী মহান বাগ্মীতায়
কাগজে লেখা বিনে,
মননের কাগজে লিখিত বাণী-
বুনে ছিলে নেতা অবলীলায়।
শোষিত মানুষের হৃদয় ছুঁতে
৭ মার্চ একাত্তরে।

স্বাধীনতার অঙ্কুরিত সেই স্বপ্ন-
বেড়েছিল তোমার পুষ্টিতে,
মাত্র নয় মাসে, ১৬ ডিসেম্বরে।
তপ্ত গ্রীষ্ম পেরিয়ে শীতের আগমনে
স্বাধীন দেশের স্বাধীন বসন্ত-
পেয়েছিল আপামর, মানচিত্র মাঝে
অনেক ত্যাগ রক্তের দামে।


স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো
নির্মলেন্দু গুণ


একটি কবিতা লেখা হবে তার জন্য অপেক্ষার উত্তেজনা নিয়ে

লক্ষ লক্ষ উন্মত্ত অধীর ব্যাকুল বিদ্রোহী শ্রোতা বসে আছে

ভোর থেকে জনসমুদ্রের উদ্যান সৈকতে: ‘কখন আসবে কবি?’



এই শিশু পার্ক সেদিন ছিল না,

এই বৃক্ষে ফুলে শোভিত উদ্যান সেদিন ছিল না,

এই তন্দ্রাচ্ছন্ন বিবর্ণ বিকেল সেদিন ছিল না৷

তা হলে কেমন ছিল সেদিনের সেই বিকেল বেলাটি?

তা হলে কেমন ছিল শিশু পার্কে, বেঞ্চে, বৃক্ষে, ফুলের বাগানে

ঢেকে দেয়া এই ঢাকার হদৃয় মাঠখানি?



জানি, সেদিনের সব স্মৃতি ,মুছে দিতে হয়েছে উদ্যত

কালো হাত৷ তাই দেখি কবিহীন এই বিমুখ প্রান্তরে আজ

কবির বিরুদ্ধে কবি,

মাঠের বিরুদ্ধে মাঠ,

বিকেলের বিরুদ্ধে বিকেল,

উদ্যানের বিরুদ্ধে উদ্যান,

মার্চের বিরুদ্ধে মার্চ … ৷



হে অনাগত শিশু, হে আগামী দিনের কবি,

শিশু পার্কের রঙিন দোলনায় দোল খেতে খেতে তুমি

একদিন সব জানতে পারবে; আমি তোমাদের কথা ভেবে

লিখে রেখে যাচ্ছি সেই শ্রেষ্ঠ বিকেলের গল্প৷

সেই উদ্যানের রূপ ছিল ভিন্নতর৷

না পার্ক না ফুলের বাগান, — এসবের কিছুই ছিল না,

শুধু একখন্ড অখন্ড আকাশ যেরকম, সেরকম দিগন্ত প্লাবিত

ধু ধু মাঠ ছিল দূর্বাদলে ঢাকা, সবুজে সবুজময়৷

আমাদের স্বাধীনতা প্রিয় প্রাণের সবুজ এসে মিশেছিল

এই ধু ধু মাঠের সবুজে৷



কপালে কব্জিতে লালসালু বেঁধে

এই মাঠে ছুটে এসেছিল কারখানা থেকে লোহার শ্রমিক,

লাঙল জোয়াল কাঁধে এসেছিল ঝাঁক বেঁধে উলঙ্গ কৃষক,

পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে এসেছিল প্রদীপ্ত যুবক৷

হাতের মুঠোয় মৃত্যু, চোখে স্বপ্ন নিয়ে এসেছিল মধ্যবিত্ত,

নিম্ন মধ্যবিত্ত, করুণ কেরানী, নারী, বৃদ্ধ, বেশ্যা, ভবঘুরে

আর তোমাদের মত শিশু পাতা-কুড়ানীরা দল বেঁধে৷

একটি কবিতা পড়া হবে, তার জন্যে কী ব্যাকুল

প্রতীক্ষা মানুষের: “কখন আসবে কবি?’ “কখন আসবে কবি?’



শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে,

রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে

অত:পর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন৷

তখন পলকে দারুণ ঝলকে তরীতে উঠিল জল,

হদৃয়ে লাগিল দোলা, জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার

সকল দুয়ার খোলা৷ কে রোধে তাঁহার বজ্রকন্ঠ বাণী?

গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর-কবিতাখানি:

‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,

এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম৷’

সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের৷


জনতার কাঙ্ক্ষিত কবিতা
অকেন সুমন আহমেদ

মিছিলের প্ল্যাকাডে উত্তাল বর্ণমালা
দু’হাত বাড়িয়ে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নডানা।
প্রত্যাশা দিন পেরিয়ে আসবে নতুন দিন
স্লোগানে তাই ঝাঁঝালো কাব্যঋণ।

একটি মানচিত্রের জন্য
একটি পতাকার জন্য
মা-মাতৃভূমির জন্য
নতুন আলোর ভোরের জন্য,
ছাত্র-জনতা-মজুর, কিশোর-বৃদ্ধ
নারী-পুরুষ-বৃহন্নলা, ধর্ম-বর্ণ-আদিবাসী
সবার শত বছরের অপেক্ষা।

স্লোগানে স্লোগানে কম্পিত চারপাশ
বুকে সবার হৃৎপিণ্ডের ধকধকানি।
নেতা এসে দাঁড়ালেন জনসম্মুখে
আবৃত্তি করলেন জনতার কাঙ্ক্ষিত কবিতাখানি!


‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

* জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং কবি নির্মলেন্দু গুণকে উৎসর্গকৃত।


বজ্রকন্ঠের  নিনাদ
এ কে সরকার শাওন


আর নয় ভয়ার্ত কন্ঠে পিছু হটা!
আজ এসপার কি ওসপার,

একটা না একটা কিছু হবে !

সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালী জেগেছে

ভুট্টো ইয়াহিয়া দাঁতভাঙা জবাব পাবে!

 

৭ মার্চে  আর দেরী সহ্য হচ্ছে না,

আজ  চুড়ান্ত ফায়সালার হবে!

স্বাধীনতা, ন্যায় ও সাম্যের মিছিলের

তোড়ে মেদিনী কাঁপবে ভবে!

 

পাকিরা পাততাড়ি গোটাবে

নতজানু হয়ে সারেন্ডার করবে!

লাল সবুজের পতাকা উড়বে

বিস্ময়ে বিশ্বের চোখ ছানাবড়া হবে!

 

সেটারই চূড়ান্ত রূপরেখা হবে

এই মঞ্চে প্রিয় নেতার বজ্রকন্ঠে!

উন্মত্ত জনতা পড়বে ঝাঁপিয়ে

থাকবেনা কেউ আর অবগুন্ঠে!

 

বাঙ্গালী গর্জে  ওঠে দীক্ষা নিবে

ভারতচন্দ্র রায়গুনাকরের বাণী!

মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পতন

সেই ঘোষনা দিবেন মহা সেনানী!

 

লাখো  লাখো উন্মত্ত জনতার

প্রতীক্ষার হলো  অবসান,

সব শেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ!

মাথা উঁচিয়ে বীর সেনানী

জণাকীর্নতায়  মঞ্চে আরোহণ!

 

ভায়েরা আমার বলে শুরু হলো,

সে কি বজ্রকন্ঠের হুন্কার!

উপস্থিত লাখো শ্রোতা অমর হলো,

শুরু হলো নূতন ইতিহাস লিখার!

 

কথার বজ্রবানে জনতা বেসামাল

ইয়াহিয়ার মসনদ এক ঝাকি খেল!

পাকিস্তানের মাটি চিড়ে দু’ভাগ

মহা বিশ্বে বাংলাদেশ জন্ম নিল!

 

বাংলা মায়ের সেই বরপুত্র নেই

সে লভিয়াছে অমরত্বের স্বাদ!

অাজো  যাই যেথায় মানসপটে  আসে

সেই তর্জনী আর বজ্রকন্ঠের  নিনাদ!

কাব্যগ্রন্থ:- বাঁশিওয়ালা 

৭ মার্চের ভাষণ 
শরীফ সাথী


 বিশ্ব সেরা এক কবিতা

জয় করেছে আসন,

সেই কবিতা শেখ মুজিবের

৭ মার্চের ভাষণ।

সংগ্রামী সুর দূর বহু দূর

মধুর ভালোবেসে,

স্বাধীন করতে কথা বলে

সেই কবিতা দেশে।

শান্তি সুখের আবাস ভূমি

করবো সকল জনে,

সেই কবিতা স্বপ্ন দেখায়

এই বাঙালির মনে।

সব জনতা উঠল জেগে

গড়তে পরিবেশ,

সেই কবিতায় সৃষ্টি হল

স্বাধীন বাংলাদেশ।

বঙ্গবন্ধু
দেওয়ান লালন আহমেদ


তুমি বিহনে
শোকবিধূর বিদগ্ধ প্রাণে
অশ্রু ঝরে ঘরে ঘরে,
দেশের জন্য সকলি করে দান
তার জন্য মায়ায় জাগে পরান ।

সাধ্য কার এত অল্প দিনে
রক্তের দামে স্বাধীনতা কিনে,
এসেছে সেই ক্রান্তিকাল
বুনন করেছে মুক্তির স্বপ্নজাল।

তুমিই তোমার তুল্য
নির্লোভ খাঁটি অমূল্য,
তোমার মত এমন আর কেউ
ছড়াবে না উঠাবে না আর
তুমুল উত্তাল ঢেউ।

গগন মণ্ডলে হেনকালে
তোমার মত আর কেউ
জনম জনমে
জন্মাবেনা ইহকালে।

চেতনাদীপ্ত সে ভাষণ 
মো. হাসান ঈমাম


আমি পৌঁছে দেব পৃথিবীর প্রতি প্রান্তরে
রক্তভেজা প্রতিটি জনপদে
আন্দোলনে মনোবল সঞ্চারণে
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের সে ভাষণ,
সহসা ভয়-সংকোচ ঝেরে ফেলে
হতাশার মাঝে শোষিত খুঁজে পাবে
শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর যত প্রেষণ।

আমি মোহাচ্ছন্ন হয়ে অস্পৃশ্য শিহরণে
কান পেতে শুনবো সে ভাষণ।

আমি ছড়িয়ে দেব সে ভাষণ,
যে ভাষণ শোষকের দুর্গে তোলে কম্পন।
যে ভাষণে নিস্পৃহ হৃদয়ও করে শক্তি অন্বেষণ,
মুক্ত বাতাসে জাতির স্বপ্ন সাজাতে
ঘর থেকে মাতৃস্নেহের শৃঙ্খল ছিড়ে
নির্ভয়ে পথে-প্রান্তরে তোলে আলোড়ন,
আমি ছড়িয়ে দেব সারা বিশ্বে
দলিতদের মাঝে সে ভাষণ।

যে ভাষণে সুললিত কণ্ঠে মানুষের
অধিকার আদায়ে ঝরে বিনীত নিবেদন,
যে ভাষণ কভু বীরোচিত বাণীতে
দুর্বার দুর্দমনীয় স্বরে করে অধিকার অর্জন।

সবাই কান পেতে শোন বজ্রকণ্ঠের সে ভাষণ,
নিষ্প্রভ কর্ণও আজ ফিরে পাবে শিহরণ।

আমি কান পেতে শুনি সে ভাষণ-
যে ভাষণ শুনে এক মৃত্যুপুরে
শীর্ণকায় বাহুতে হয় পেশীশক্তির আগমন,
দেশের জন্য বীরদর্পে
যারা মৃত্যুকে করে আলিঙ্গন।

যে ভাষণ শুনে শূন্য হাতে
তপ্ত বুলেটের সম্মুখে
হাসিমুখে লাখো বক্ষ চিড়ে
বিশ্বের বুকে এক আলোকরশ্মির প্রজ্বলন,
বিপ্লবী জনতার হাতে বাংলাদেশের জাগরণ।

আমি দিন-রাত আত্মচেতনে উদ্বীপ্ত মননে
সদা কান পেতে থাকি শুনতে সে ভাষণ।

৭ মার্চ
 শোয়েব আহম্মেদ বাধন


প্রত্যক্ষ শ্রবণ করতে পারিনি;
সে ভাষণ।
এই আফসোস আমাদের;
থাকবে সারাজীবন।

তবুও অনুভবে আজ সেই বজ্রধ্বনির কম্পন,
তুমি ছিলে সাত কোটি প্রাণের;
স্বাধীনতার দর্পণ।
একটি তর্জনীর ইশারায় যে করেছিলো বাঙালির;
স্বাধীনতার স্বপ্ন বুনন।

প্রত্যক্ষ শ্রবণ করতে পারিনি;
সে ভাষণ।
এই আফসোস আমাদের;
থাকবে সারাজীবন।

তুমি তুলেছিলে ৭ কোটি মস্তিষ্কে আলোড়ন;
তুমিই ছিলে স্বাধীনতার স্পন্দন।
তুমিই সে ভাষণ!
৪৭ বছর পরেও এসে জাগাও ;
প্রতিটি লোমকূপে শিহরণ।

আফসোস আমাদের
প্রত্যক্ষ শ্রবণ করতে পারিনি;
সে ভাষণ!
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url

READ POETRY IN YOUR NATIVE LANGUAGE