২৬ মার্চের কবিতা।স্বাধীনতা দিবসের কবিতা।ছোটদের স্বাধীনতা দিবসের কবিতা


আজকে আমরা পড়বো স্বাধীনতা দিবসের সেরা কবিতাগুলো

অস্ত্র সমর্পণ
-হেলাল হাফিজ

মারণাস্ত্র মনে রেখো ভালোবাসা তোমার আমার।

নয় মাস বন্ধু বলে জেনেছি তোমাকে, কেবল তোমাকে।

বিরোধী নিধন শেষে কতোদিন অকারণে

তাঁবুর ভেতরে ঢুকে দেখেছি তোমাকে বারবার কতোবার।

মনে আছে, আমার জ্বালার বুক

তোমার কঠিন বুকে লাগাতেই গর্জে উঠে তুমি

বিস্ফোরণে প্রকম্পিত করতে আকাশ, আমাদের ভালবাসা

মুহূর্তেই লুফে নিত অত্যাচারী শত্রুর নি:শ্বাস।

মনে পড়ে তোমার কঠিন নলে তন্দ্রাতুর কপালের

মধ্যভাগ রেখে, বুকে রেখে হাত

কেটে গেছে আমাদের জঙ্গলের কতো কালো রাত!

মনে আছে, মনে রেখো

আমাদের সেই সব প্রেম-ইতিহাস।

অথচ তোমাকে আজ সেই আমি কারাগারে

সমর্পণ করে, ফিরে যাচ্ছি ঘরে

মানুষকে ভালোবাসা ভালোবাসি বলে।

যদি কোনোদিন আসে আবার দুর্দিন,

যেদিন ফুরাবে প্রেম অথবা হবে না প্রেম মানুষে মানুষে

ভেঙে সেই কালো কারাগার

আবার প্রণয় হবে মারণাস্ত্র তোমার আমার।


স্বাধীনতা দিবস, তুমি
মুহম্মদ কবীর সরকার


স্বাধীনতা দিবস,তুমিই স্বাধীন

আজ কেহ নেই তোমার অধীন।

বদলে গেছে ৭১আর আজকের দিন।

যে যার রাজত্বের রাণী

স্বাধীনতা দিবস তুমি

চৌয়াল্লিশ বছর পূর্বে তোমাকে

এনেছিলাম বুকের রক্ত দিয়ে লিখে।

জায়গা দিয়েছিলাম এই বুকে।

শত প্রাণ শত আঘাত ভুলে,

তোমার ঘরেও যে পরাধীনতা

মারামারি প্রাণ হীন নাশকতা

ওগো মোর প্রিয় স্বাধীনতা।

তবে তুমি কেন আসলে?

স্বাধীনতা দিবস তুমি

তোমার লগনে ও কাঁপছে ভূমি

তুমি যে এসেছ ভুলে যায় আমি।


স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা
 সালমান আহমদ

 

স্বাধীনতা তুমি আমার স্বাধীনতা!

তুমি জাগ্রত জনতার গৌরবগাথাঁ।

লাখো জনতার হৃদয়বিদারক

স্মৃতিকথা তুমি স্বাধীনতা ।

 

যেদিন বাংলা বলাতে ছিল যত বাধা

সেদিন স্বাধীনতা ।

সেই কালো রাতের অস্থির অবস্থা

সেই তুমি স্বাধীনতা।

 

২৫ শে মার্চের করুন স্মৃতিকথা

সেই তুমি স্বাধীনতা।

২৬ শে মার্চের ডাক দেয়া জনতা

সেই তুমি স্বাধীনতা।

 

শত মা বোনের মানহানির যত কথা

সেই তুমি স্বাধীনতা ।

দামাল ছেলের প্রাণের অস্থিরতা

সেই তুমি স্বাধীনতা

 

বাঙালির থাবায় শত্রুদের পরাধীনতা

সেই তুমি স্বাধীনতা

এক ঝাক তরুনের জেগে ওঠার কথা

সেই তুমি স্বাধীনতা।

 

১৬ ডিসেম্বরের ইতিকথা

সেই তুমি স্বাধীনতা।

স্বাধীনতা তুমি আমার স্বাধীনতা

তুমি জাগ্রত জনতার গৌরবগাথাঁ।

 

তাড়া
দীদার মাহদী

 

দেশের যত শত্রু আছে তাড়া,

তোরা যুবক তোদের হাতে

পড়ুক ওরা মারা ৷

 

দেশপ্রেমিকের ছদ্মবেশে ওরা,

খুব গোপনে দেশের বুকে

চালায় চাক্কু ছোড়া ৷

 

চিহ্নিত কর তরুণ সবাই মিলে,

নইলে ওরা খুব অচিরেই

দেশটা খাবে গিলে ৷

 

ঐক্যবদ্ধ হয়ে সবাই দাঁড়া,

দেশকে স্বাধীন রাখতে ওদের

দে করে দেশ ছাড়া ৷

 

 

ওদের যত বিষাক্ত দাঁত তোরা,

ভেঙে দিয়ে লাল সবুজের

জয় পতাকা ওড়া ৷

 

স্বাধীনতা – দেবব্রত সিংহ

কথাটা ত মিছা লয়

লালগড়ের জঙ্গলমহলের সবাই জানে

ডুমুরগড়্যা, বেণাচাপড়া, বাঁকিশোল,হাতিঘোসা,শালডাঙ্গা

মোহনপুর, কলাইমুড়ির জানে সবাই

দিনের বেলা পুলিশ

রাতের বেলা উয়ারা,

পুলিশ বলে স্বাধীনতা

উয়ারা বলে মিছাকথা

ফের পুলিশ বলে স্বাধীনতা

ফের উয়ারা বলে মিছা কথা,

আমরা গরীব মানুষ

আমরা গো মুখখু মানুষ

খিদা বুঝি তিলষা বুঝি

ইসবের ত কিছু বুঝি নাই,

তবু দিনের বেলা পুলিশ আসে,

“হপন আছিস?”

হঁ আইজ্ঞা আছি

আমি হপন মান্ডি

বাপ তিলকা মান্ডি।

রাতের বেলা জঙ্গলমহলে রাত নামলে

আমার তালপাতায় ছাওয়া মাটির ঘরে

জুমড়াকাঠের আংরার পারা অন্ধকার

কপাট ও নাই হুড়কাও নাই

তখন উয়ারা আসে

কমরেড হপন আছো?

বলি হঁ আইজ্ঞা আছি

আমি হপন মান্ডি

বাপ তিলকা মান্ডি।

(সংক্ষেপিত)


কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প
রুদ্র মুহান্মদ শহীদুল্লাহ

 

তাঁর চোখ বাঁধা হলো।

বুটের প্রথম লাথি রক্তাক্ত করলো তার মুখ।

থ্যাতলানো ঠোঁটজোড়া লালা-রক্তে একাকার হলো,

জিভ নাড়তেই দুটো ভাঙা দাঁত ঝওে পড়লো কংক্রিটে।

মা…মাগো…চেঁচিয়ে উঠলো সে।

পাঁচশো পঞ্চান্নো মার্কা আধ খাওয়া একটা সিগারেট

প্রথমে স্পর্শ করলো তার বুক।

পোড়া মাংসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়লো ঘরের বাতাসে।

জ্বলন্ত সিগারেটের স্পর্শ

আমারা কথা বলবো।

লাঠিচার্জ আমাদের ফেরাতে পারেনি

কাঁদানে গ্যাস আমাদের ফেরাতে পারেনি

র্ইাফেল আমাদের ফেরাতে পারেনি

মেশিন গান আমাদের ফেরাতে পারেনি –

আমারা এসেছি,

আমারা আমাদের গৃহহীনতার কথা বলবো।

কৃষক তোমাদের পক্ষে যাবে না

শ্রমিক তোমাদের পক্ষে যাবে না

ছাত্র তোমাদের পক্ষে যাবে না

সুন্দর তোমাদের পক্ষে যাবে না

স্বপ্ন তোমাদের পক্ষে যাবে না –

তারা সকলেই কষ্টে আছে

তারা সকলেই অনটনে আছে

তারা সকলেই বিক্ষোভের হাত তুলেছে।

তোমাদের পক্ষে যাবে কুকুর

তোমাদের পক্ষে যাবে সুবিধাভোগী

তোমাদের পক্ষে যাবে বিত্তবান নেকড়েরা।

বৃক্ষ তোমাদের অভিশাপ দিচ্ছে

শস্য তোমাদের অভিশাপ দিচ্ছে

রক্ত তোমাদের অভিশাপ দিচ্ছে

তোমাদের অভিশাপ দিচ্ছে পৃথিবীর সমস্ত শিশুরা।

লক্ষ মৃত্য আমাদের ফেরাতে পারেনি

আমারা এসেছি।

আমারা আমাদের শিক্ষাহীনতার কথা বলবো

আমারা আমাদের চিকিৎসাহীনতার কথা বলবো

আমারা আমাদের গৃহহীনতার কথা বলবো

আমারা আমাদের বস্ত্রহীনতার কথা বলবো

আমারা আমাদের ক্ষুধা ও মৃত্যুর কথা বলবো।

আমরা তিতুমিরের বাঁশের কেল্লা থেকে এসেছি

আমরা সিপাহী আন্দোলনের দুর্গ থেকে এসেছি

আমরা তেভাগার কৃষক, নাচোলের যোদ্ধা

আমরা চটকলের শ্রমিক, আমরা সূর্যসেনের ভাই

আমরা একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধ থেকে এসেছি

কাঁধে স্টেন, কোমরে কার্তুজ, হাতে উন্মত্ত গ্রেনেড –

আমরা এসেছি।


স্বাধীনতা
আবু বক্কর সিদ্দিক

স্বাধীনতা তুমি আমার জন্য,

তবে কেনো নয় অন্যের।

স্বাধীনতা কি আমি এনেছি,

শুধু আমারই জন্যে?


আজকে কেনো স্বাধীন দেশে,

তাদের কথার দাম নেই?

কাদের কথায় স্বাধীনতা আমার,

নও কেনো তুমি অন্যের?


স্বাধীনতা তুমি জন্মের সময় কেনো বলনি তবে,

তোমার জন্য আরো প্রাণ চাই রাজি ছিল সে জবে।

তবে কেনো তুমি আজও নিতেছো,

হাজার লোকের প্রাণ।

স্বাধীনতা তুমি সবার নাকি,

শুধুই ক্ষমতার প্রমাণ!


স্বাধীনতা তোমায় ভালোবেসে যে রেখেছিল বুকে পুষে,

সেই বুক চিরে রক্ত বইছে,

কেনো স্বাধীনতা তুমি বসে?


স্বাধীনতা তোমার কোন নীয়মে অপরাধী পায় ছাড়া,

নিরপরাধ বৃদ্ধের হাতে কেনো তবে হাতকড়া?


স্বাধীনতা কেনো তোমার জন্য,

আজও ঝরবে প্রাণ?

তবে কি সেদিন কম ছিল সেই ত্রিশ লক্ষ্য প্রাণ?


স্বাধীনতা কেনো তোমার জন্য,

 আজও মিছিল রাজপথে?

কোন স্বাধীনতা চাইছে তারা,

স্বাধীনতার তরে!


তবে কি আমি হয়েছি স্বাধীন,

তারে করে আমার অধীন;

স্বাধীনতা তুমি কবে হবে তবে সবার তরে,

স্বাধীন...

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url

READ POETRY IN YOUR NATIVE LANGUAGE